কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :০৯ জানুয়ারি ২০২৬  

গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হওয়ার আগেই ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। শুক্রবার ভোররাতে Gangasagar Mela প্রাঙ্গণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একাধিক অস্থায়ী ছাউনি। আগুন লাগে Kapil Muni Temple সংলগ্ন দু’নম্বর রাস্তার পাশে তৈরি করা হোগলা ও দাহ্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কাঠামোগুলিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ভোরের দিকে হঠাৎ করেই একটি ছাউনির ভেতর থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অস্থায়ী ঘরগুলিতে। হোগলা দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক ছাউনি ভস্মীভূত হয়ে যায়। লেলিহান শিখায় গোটা এলাকা ঢেকে যায় কালো ধোঁয়ায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন দফতরের ক্যাম্প ও অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করা হচ্ছিল।
এই ছাউনিগুলির মধ্যে—

  • সরকারি আধিকারিকদের থাকার বন্দোবস্ত ছিল

  • তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকদের জন্য ক্যাম্প তৈরি হচ্ছিল

  • একাংশ ছাউনিতে সাংবাদিকদের থাকারও পরিকল্পনা ছিল

ভাগ্যক্রমে ভোরের দিকে ছাউনিগুলি প্রায় ফাঁকাই ছিল। ফলে কোনও হতাহতের খবর নেই বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আশপাশের ছাউনিগুলিতে যাতে আগুন না ছড়ায়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়। দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ আগুন নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হবে।

এই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
দমকলের প্রাথমিক অনুমান—

  • শর্ট সার্কিট

  • অথবা কোনও দাহ্য সামগ্রী থেকে আগুন ছড়াতে পারে

পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত।

গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—

  • অস্থায়ী ক্যাম্পে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা পর্যাপ্ত?

  • বিদ্যুৎ সংযোগ ও তারের সুরক্ষা ঠিকমতো ছিল কি না?

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, মেলা শুরু হওয়ার আগে এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কড়া পর্যালোচনা করা হতে পারে।

গঙ্গাসাগর মেলার মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় হয়। তার আগে এমন ঘটনা প্রশাসনের কাছে নিঃসন্দেহে বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।