কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৯ নভেম্বর

কলকাতার বুকে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি ফের সামনে এল। গভীর রাতে কসবার বোসপুকুর প্রান্তিক পল্লির নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকা শোনা গেল গুলির শব্দ। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল এলাকায়। কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরে ঘটে গেল শুটআউট। গুলিবিদ্ধ হলেন ২১ বছরের অভিজিৎ নাইয়া — বর্তমানে তিনি রুবি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বছর খানেক আগে ঠিক এই অঞ্চলের কাছেই গুলির ঘটনা ঘটেছিল। আবারও সে ভয়ংকর স্মৃতি ফিরে এল রাতের অন্ধকারে।

বুধবার রাত প্রায় ১১টা। বোসপুকুর প্রান্তিক পল্লির লোকজন ঘরের দরজা বন্ধ করে রাতের প্রস্তুতিতে। সেই সময় আচমকাই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে—
পরিত্যক্ত একটি জায়গায় কয়েকজন যুবক জমায়েত হয়ে খাওয়াদাওয়া করছিলেন। তাদের মধ্যেই ছিলেন অভিজিৎ নাইয়া।
হঠাৎ বচসা বাধে। সেই বচসা থেকে গুলি চলেছে কি না, সেই দিকেই ঝুঁকছে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে— গুলির খোল ,মদের বোতল ,খাবারের প্যাকেট ,প্লেট
সব মিলিয়ে সেখানে একপ্রকার রাতের আসর বসেছিল বলেই মনে করছে পুলিশ।

গুলিটি লাগে অভিজিতের বাঁ হাতের তালুতে। তড়ঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান এলাকার মানুষজন।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—

  • গুলি চলার সময়ে অভিজিতের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুবক ছিলেন।

  • পুলিশ তাঁদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

  • বচসা থেকেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত গুলি কারা চালিয়েছে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য হাতে আসেনি।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা—
এলাকার দুষ্কৃতী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা আধিপত্য বিস্তারকেই কেন্দ্র করে এই গোলমাল।

এই ঘটনার পর ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে— কলকাতা কি সত্যিই নিরাপদ ? কারণ—

  • ঠিক এক বছর আগে, ১৫ নভেম্বর, অ্যাক্রোপলিস মলের কাছে কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল।

  • এরপর আনন্দপুর, কসবা ও ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় বারবার উঠেছে গুন্ডাগিরির অভিযোগ।

  • মাঝরাতেই নয়, সন্ধ্যার পর থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীদের ঘোরাফেরার খবর মিলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য—
“রাস্তা দিয়ে বেরোতে ভয় লাগে। কখন কোথায় কী হয়ে যায় তার ঠিক নেই।”

শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত অঞ্চলের একটিতে, ইএম বাইপাসের এত কাছে, এমন ধারাবাহিক গুলিবর্ষণ প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অন্যদিকে  তদন্তকারীরা জানিয়েছেন—

  • ঘটনাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

  • সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

  • এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতীদেরও তালাশ করা হচ্ছে

পুলিশের দাবি, খুব শিগগিরই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা এর সঙ্গে জড়িত।

প্রসঙ্গত কসবার শুটআউট শুধু একটি রাতের ঘটনা নয়— এটি কলকাতার নিরাপত্তার কাঠামোকে ঘিরে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। প্রশাসন ও পুলিশের কার্যকর ভূমিকা ছাড়া সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটবে না—এ কথা বলছেন স্থানীয়রাই।