কলকাতা টাইমস নিউজ : নিউজ ডেস্ক : নয়াদিল্লি :১৬ মার্চ ২০২৬
কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে ফের কঠোর অবস্থান নিল হাইকোর্ট। নারকেলডাঙার কসাইবস্তি ক্রস লেনে একটি বেআইনি সাততলা বহুতল ভাঙার নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত। শেষপর্যন্ত স্থানীয় থানার ওপর ভরসা না রেখে সরাসরি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলা ওঠে। মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রায় ছ’মাস আগে বেআইনি ওই বহুতল ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ওই বহুতল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে ভাঙার কাজে সহায়তা করতে হবে। কিন্তু এতদিন পরেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে।
নারকেলডাঙার ৫ নম্বর কসাইবস্তি ক্রস লেনের ওই বহুতল এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে আগের মতোই। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করে রোজকার ভিত্তিতে ভাঙার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় থানা যদি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করত, তাহলে এই পর্যায়ে সিনিয়র অফিসারকে নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।
এ দিন আদালতে কলকাতা পুরসভা একটি রিপোর্ট পেশ করে জানায়, সংশ্লিষ্ট সাততলা বহুতল সম্পূর্ণ বেআইনি। এমনকি ওই ভবনে পুরসভার কোনও জল সংযোগ নেই বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে সিইএসসি-র তরফে জানানো হয়েছে, ওই বাড়িতে তাদের কোনও মিটার রুমও নেই। এই তথ্য সামনে আসার পর আদালত প্রশ্ন তোলে— তা হলে কীভাবে সেখানে বসবাসকারীরা জল ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন?
এই বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যদি দেখা যায় বেআইনি উপায়ে জল বা বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হয়েছে, তাহলে তা অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কাজে কলকাতা পুরসভা ও সিইএসসি-কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।
শুনানির সময় পুলিশের পক্ষ থেকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আরও একদিন সময় চাওয়া হলে আদালত তা মেনে নিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর বিলম্ব সহ্য করা হবে না। বিচারপতি সিনহার মন্তব্য, হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে নারকেলডাঙা থানা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন সরাসরি পুলিশ কমিশনারকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিদিনের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত আরও সতর্ক করে দিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে যদি বেআইনি ওই নির্মাণ ভাঙা না হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে আদালত। এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে আর কোনও শিথিলতা দেখাতে রাজি নয় হাইকোর্ট।
একই দিনে বিচারপতি সিনহার এজলাসে আর একটি বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলাও ওঠে। সেখানে কলকাতা পুরসভা জানায়, ক্যানাল ইস্ট রোডে অবস্থিত একটি বেআইনি বহুতল ২৪ ও ২৫ মার্চ ভাঙা হবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেয়, ফুলবাগান থানাকে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী দিয়ে পুরসভাকে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে ভাঙার কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
পুরো ঘটনায় স্পষ্ট, কলকাতায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে হাইকোর্ট। প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আদালতের এই সক্রিয়তায় বেআইনি বহুতলগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের সম্ভাবনা জোরদার হল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Continue With Google
Comments (0)