কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১১ ডিসেম্বর
রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ১১ ডিসেম্বর এনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার ডেডলাইন সামনে রেখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দপ্তরে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ডিজিটাইজ়েশনের কাজ প্রায় শেষ হলেও চূড়ান্ত চিন্তা তৈরি করেছে সেল্ফ ম্যাপিং ও প্রোজেনি ম্যাপিং-এর হার—বিশেষত বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অস্বাভাবিক প্রোজেনি ম্যাপিং-এর সংখ্যা বৃদ্ধি।
নির্বাচন কমিশনের হাতে যে রিপোর্ট এসেছে, তা উদ্বেগ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।
প্রোজেনি ম্যাপিং হয়েছে ৫০.২২% ভোটারে, যেখানে সেল্ফ ম্যাপিং হয়েছে মাত্র ৩৮.৩%—এই দুইয়ের শতাংশের এমন বড় ফারাক স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছে CEO দপ্তর।
প্রোজেনি ম্যাপিং হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে—
-
ভোটার যদি নিজের বা বাবা–মায়ের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে লিঙ্কেজ দেখাতে না পারেন,
-
তবে তিনি দাদু–দিদা বা ঠাকুরদা–ঠাকুমার ভোটার তথ্য দেখিয়ে वंशানুক্রমিক লিঙ্কেজ প্রমাণ করতে পারেন।
এই নিয়মটি এনেছে নির্বাচন কমিশন, যাতে প্রকৃত ভোটাররা তাঁদের পরিবারের পুরোনো ভোটার তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় প্রমাণ করতে পারেন।
কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকায় এই পদ্ধতির অস্বাভাবিক উচ্চ হার প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলছে—
অতিরিক্ত প্রোজেনি ম্যাপিং কি অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত?
নির্বাচন কমিশনের একাংশের মতে—
-
পিতা–পুত্রের বয়সে বড় অমিল,
-
দাদু–দিদার তথ্যের মাধ্যমে ভোটার হবার প্রবণতা বৃদ্ধি,
-
সীমান্তবর্তী ব্লকগুলিতে অস্বাভাবিক নতুন এন্ট্রি
—এসবই হতে পারে অনুপ্রবেশ ঘটলে লিঙ্কেজ তৈরি করার একটি পথ।
CEO মনোজকুমার আগরওয়াল ইতিমধ্যেই নতুন স্পেশাল রোল অবজ়ারভারদের এই বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অদ্ভুত হলেও সত্যি, নো-ম্যাপিং হার কলকাতায়ই সবচেয়ে বেশি।
যেখানে—
-
রাসবিহারীতে নো-ম্যাপিং: ১৩%
-
ভবানীপুরে: ১২%
-
কলকাতা বন্দরে: ১১%
-
বালিগঞ্জে: ১০%
শুধুমাত্র জোড়াসাঁকো বিধানসভা এলাকায় নিখোঁজ, মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা ৭৩ হাজার—যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কমিশনের।
অন্যদিকে জেলাস্তরে—
-
উত্তর ২৪ পরগনা: ৮.৫% নো-ম্যাপিং
-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩.২%
এই দুই জেলাই সীমান্তের দিকে হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।
অপরদিকে SIR (Special Summary Revision)-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হতে না হতেই সামনে এসেছে বেসামাল হিসেব—
মোট Uncollectable Form: ৫৭,৫২,২০৭টি
এর মধ্যে রয়েছে—
-
মৃত ভোটার: ২৪,১৪,৭৫০
-
নিখোঁজ ভোটার: ১১,৫৭,৮৮৯
-
ডুপ্লিকেট ভোটার: ১,৩৫,৬২৭
-
স্থানান্তরিত ভোটার: ১৯,৮৯,৯১৪
-
অন্যান্য: ৫৪,০২৭
এই বিশাল সংখ্যা নিজেই প্রমাণ করছে যে ভোটার তালিকা সংশোধনে এবার কমিশনের সামনে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ অনেকটাই বেশি।
একন প্রশ্ন কেন এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক ?
-
ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়
-
সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের সন্দেহ বাড়লে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়
-
বয়স, লিঙ্কেজ, পরিবারগত রেকর্ডে অসামঞ্জস্য গণবিভ্রান্তি বাড়ায়
-
বৃহৎ সংখ্যায় মৃত/নিখোঁজ ভোটার উপস্থিত থাকলে ভোটার তালিকা বিকৃত হয়
এ বিষয় নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়েছে—
স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ছাড়া মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
যদিও প্রোজেনি ম্যাপিং, সেল্ফ ম্যাপিং, নো-ম্যাপিং—এই তিনটির অস্বাভাবিক ভিন্নতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভোটার তালিকার সঠিকতা বজায় রাখতে কমিশনকে এখনই তৎপর হতে হবে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর নজরদারি ও অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন।
পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আগে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলেই রাজ্যের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
Continue With Google
Comments (0)