কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২১নভেম্বর
শুক্রবার সকাল ঠিক ১০টা ৯ মিনিট। দৈনন্দিন কাজের মাঝেই আচমকা হালকা দুলে ওঠে বাড়ির আসবাবপত্র। কেউ মাথা ঘুরছে মনে করেছেন, কেউ আবার প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে স্পষ্ট হয়ে যায়— ভূমিকম্প হয়েছে।
কলকাতা, নদিয়া, কোচবিহার, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর— বাংলার একাধিক জেলায় স্পষ্ট অনুভূত হয় এই কম্পন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ঢাকা, চাঁদপুর, নীলফামারী, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী-সহ বহু এলাকাতেও অনুভূত হয় তীব্র ঝাঁকুনি। আতঙ্কে বহু জায়গায় মানুষ ঘর-বাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে আসেন।
কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী—
-
ভূমিকম্পের সময়: সকাল ১০টা ৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ড
-
তীব্রতা: রিখটার স্কেলে ৫.৭
-
উৎসস্থল: বাংলাদেশ
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে—
-
কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে,
-
মাটি থেকে ১০ কিমি গভীরে,
-
তীব্রতা ৫.৫।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরও তীব্রতা ৫.৭ বলে উল্লেখ করেছে।
চোখে দেখা অভিজ্ঞতা: তিন সেকেন্ডের আতঙ্ক
কলকাতার শোভাবাজারের বাসিন্দা অমল রায় বলেন—
“হঠাৎ মাথা ঘুরতে লাগল। ভাবলাম শরীর খারাপ হচ্ছে। পরে দেখি পাখা দুলছে— তখনই বুঝলাম ভূমিকম্প।”
সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বহুতল অফিসেও কর্মীরা কম্পন টের পেয়ে তড়িঘড়ি নিচে নেমে আসেন।
তবে এখন পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমারের ভূমিকম্প অঞ্চলটি একটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট বেল্ট-এর উপর অবস্থিত। এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ভূতত্ত্ববিদদের পরামর্শ— ভবিষ্যতে বড় কম্পনের সম্ভাবনা এড়াতে নিয়মিত সতর্কতা ও প্রস্তুতি জরুরি।
শুক্রবারের ভূমিকম্পটি বড় ক্ষতি না করলেও, এটি আবারও মনে করিয়ে দিল— পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা, নাগরিক প্রস্তুতি এবং তথ্যপ্রবাহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা কিংবা ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরগুলোতে—
-
পুরনো বাড়ি
-
দুর্বল নির্মাণশৈলী
-
উচ্চ ভবনের ঘনত্ব
-
জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতির ঘাটতি
—এই সব মিলেই বড় বিপদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
কম্পনের তীব্রতা সীমিত ছিল বলে ক্ষতি হয়নি; কিন্তু যদি তীব্রতা আর একটু বেশি হতো? সেক্ষেত্রে ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ড, যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়া— এ সবই ঘটতে পারত।
বাংলা ও বাংলাদেশের জনবহুল অঞ্চলে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রয়োজন—
-
বিদ্যালয়-অফিসে নিয়মিত ড্রিল
-
সাধারণ মানুষের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ
-
প্রশাসনের দ্রুত তথ্য প্রচারব্যবস্থা
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই— এটিই স্বস্তি। তবে এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা উচিত।
Continue With Google
Comments (0)