কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :১৬ মার্চ ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ঝড়ের গতিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে গেরুয়া শিবির স্পষ্ট করে দিল, তারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েই ময়দানে নামছে। আর এই তালিকার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা একটাই—নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই লড়াইয়ে নামছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এই সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভবানীপুর, যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি, সেখানে শুভেন্দুর প্রার্থী হওয়া নিছক নির্বাচনী পদক্ষেপ নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নন্দীগ্রামেও আবার সেই পুরনো হাইভোল্টেজ দ্বৈরথের আবহ তৈরি হয়েছে।

প্রার্থী তালিকায় বিজেপি অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখদেরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। খড়গপুর সদরে দিলীপ ঘোষকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, শিবপুরে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল ঘোষ, বরাহনগরে সজল ঘোষ, রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্ত, আর আসানসোল দক্ষিণে আবারও ভরসা রাখা হয়েছে অগ্নিমিত্রা পলের উপর। তবে কিছু চমকও রয়েছে—একাধিক বর্তমান বিধায়কের নাম বাদ পড়েছে এবং নিশীথ প্রামাণিকের মতো পরিচিত মুখও প্রথম তালিকায় জায়গা পাননি।

এবার দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থীদের পূর্ণ তালিকা—

কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে কোচবিহার উত্তর আসনে সুকুমার রায়, শীতলকুচিতে সাবিত্রী বর্মন, দিনহাটায় অজয় রায়, তুফানগঞ্জে মালতি রাভা রায়, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে আনন্দময় বর্মন, শিলিগুড়িতে ড. শঙ্কর ঘোষ, ফাঁসিদেওয়ায় দুর্গা মুর্মু, গোয়ালপোখরে সরজিৎ বিশ্বাস, চাকুলিয়ায় মনোজ জৈন, করণদিঘিতে বিরাজ বিশ্বাস, কালিয়াগঞ্জে উৎপল মহারাজ, রায়গঞ্জে কৌশিক চৌধুরী, কুশমণ্ডিতে তাপস চন্দ্র রায়, কুমারগঞ্জে শুভেন্দু সরকার, বালুরঘাটে বিদ্যুৎ রায় এবং তপনে বুধরাই টুডু প্রার্থী হয়েছেন।

মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় রতুয়ায় অভিষেক সিংহানিয়া, মানিকচকে গৌর চন্দ্র মণ্ডল, মালদায় গোপাল চন্দ্র সাহা, মোথাবাড়িতে নিবারণ ঘোষ, সুজাপুরে অভিরাজ চৌধুরী, সুতিতে মহাবীর ঘোষ, রঘুনাথগঞ্জে সুরজিৎ পোদ্দার, লালগোলায় অমর কুমার দাস, ভগবানগোলায় ভাস্কর সরকার, মুর্শিদাবাদে গৌরি শঙ্কর ঘোষ, রেজিনগরে বাপন ঘোষ, বেলডাঙায় ভরত কুমার ঝাওয়ার এবং বহরমপুরে সুব্রত মৈত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে।

নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় পলাশীপাড়ায় অনিমা দত্ত, কালীগঞ্জে বাপন ঘোষ, রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়, রানাঘাট উত্তর পূর্বে অসীম বিশ্বাস, চাকদায় বঙ্কিম চন্দ্র ঘোষ, হরিণঘাটায় অসীম কুমার সরকার, বাদুড়িয়ায় সুকৃতি সরকার, আমডাঙায় অরিন্দম দে, নৈহাটিতে সুমিত্র চ্যাটার্জী, ভাটপাড়ায় পবন কুমার সিং এবং বরাহনগরে সজল ঘোষ প্রার্থী হয়েছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা অঞ্চলে ক্যানিং পূর্বে অসীম সাঁপুই, ডায়মন্ড হারবারে দীপক কুমার হালদার, বিষ্ণুপুরে অগ্নিশ্বর নস্কর, বজবজে ড. তরুণ কুমার আদক, মেটিয়াবুরুজে বীর বাহাদুর সিং, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী, রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্ত, হাওড়া উত্তরে উমেশ রাই, শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ, উলুবেড়িয়া দক্ষিণে স্বামী মঙ্গলানন্দ পুরী, আমতায় অমিত সামন্ত এবং ডোমজুড়ে গোবিন্দ হাজরা প্রার্থী হয়েছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরে পাঁশকুড়া পশ্চিমে সিন্টু সেনাপতি, ময়নাতে অশোক দিন্দা, মহিষাদলে সুবাস পানজা, হলদিয়ায় প্রদীপ কুমার বিজলী, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী, পটাশপুরে তপন মাইতি, কাঁথি উত্তরে সুমিতা সিনহা, কাঁথি দক্ষিণে অরূপ কুমার দাস, রামনগরে চন্দ্রশেখর মণ্ডল, দাঁতনে অজিত কুমার জানা, নয়াগ্রামে অমিয় কিস্কু এবং গোপীবল্লভপুরে রাজেশ মাহাতোকে প্রার্থী করা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহলে দাসপুরে তপন দত্ত, ঘাটালে সীতল কাপাট, চন্দ্রকোনায় সুকান্ত দলুই, শালবনিতে বিমান মাহাতো, কেশপুরে শুভেন্দু সামন্ত, বিনপুরে ড. প্রণত টুডু, বান্দোয়ানে লাবসেন বাস্কে, বলরামপুরে জলধর মাহাতো, মানবাজারে ময়না মুর্মু, কাশীপুরে কমলকান্ত হাঁসদা, পাড়ায় চাঁদ বাউরি এবং রঘুনাথপুরে মামণি বাউরি প্রার্থী হয়েছেন।

বাঁকুড়া ও বর্ধমানে বড়জোড়ায় বিলেশ্বর সিংহ, ওন্দায় অমরনাথ শাখা, কাটুলপুরে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার, ইন্দাসে নির্মল কুমার ধারা, সোনামুখীতে দিবাকর ঘরামি, রায়নায় সুভাষ পাত্র, জামালপুরে অরুণ হালদার, মন্তেশ্বরে সৈকত পানজা, বর্ধমান উত্তরে সঞ্জয় দাস, ভাতারে সৌমেন কার্ফা এবং কেতুগ্রামে অনাদি ঘোষ প্রার্থী হয়েছেন।

বীরভূম জেলায় দুবরাজপুরে অনুপ কুমার সাহা, সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বোলপুরে দিলীপ কুমার ঘোষ, নানুরে খোকন দাস, ময়ূরেশ্বরে দুধ কুমার মণ্ডল এবং হানসানে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

সব মিলিয়ে এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে জোরদার লড়াই দিতে প্রস্তুত। এখন দেখার, এই চ্যালেঞ্জের জবাবে শাসক দল কী কৌশল নেয় এবং আগামী দিনে নির্বাচনী লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।