ব্রিগেড ময়দান পরিদর্শনে গিয়েই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সদ্য দলত্যাগী বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা Humayun Kabir। সোমবার সকালে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানে পা রাখতেই একাংশ তৃণমূল সমর্থকের বিক্ষোভ, স্লোগান ও কটূক্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে বিজেপির ‘চামচা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
যদিও হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত বৃত্ত তৈরি করায় পরিস্থিতি বড়সড় আকার নেয়নি। তবু দিনের শুরুতেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের পরিকল্পনা, ৩১ জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্রিগেড ময়দানে একটি বড় জনসভা করা। সেই সভার প্রস্তুতি ও বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই তিনি সোমবার সকালে ব্রিগেডে যান। ঠিক সেই সময়েই ঘটে বিক্ষোভ।
বিক্ষোভের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য,
“তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই ভয় দেখাতে লোক পাঠিয়েছে। কিন্তু এতে আমি থামব না।”
এরপরই তাঁর কণ্ঠে আরও কড়া সুর—“কলকাতা কারও বাবার নয়। মসজিদও হবে, সমাবেশও হবেই। যার ক্ষমতা আছে, রুখে দেখাক।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের Trinamool Congress-এর সমর্থক বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য,
“হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে নিয়ে মিথ্যে ও কুৎসা রটাচ্ছেন। তারই প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি।”
এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাব দেন—“কে কী বলল, তার জবাব দিতে আমি বাধ্য নই।”
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি-র ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। তার আগে ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন ভরতপুরের এই বিধায়ক।
ব্রিগেড ময়দান মানেই বাংলার রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের প্রতীক। সেই ময়দানকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন কবীরের কর্মসূচি ও তার বিরোধিতায় তৃণমূলের একাংশের বিক্ষোভ—এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর, সত্যিই কি ব্রিগেডে বড় সভা করতে পারবেন হুমায়ুন কবীর? নাকি এই সংঘাত আরও নতুন মোড় নেবে?
Comments (0)