কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১অক্টোবর 

 

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কড়া নজরদারি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সীমানা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযুক্ত চেকপোস্টগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে নেপাল সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনও অসামাজিক উপদ্রবকারী, মাদক বা কালো টাকা রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে বৃহস্পতিবার এক উচ্চস্তরের বৈঠকে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রধানদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধি, রেল দফতরের আধিকারিক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা ও প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তাব্যক্তিরাও।

বিহারে দু’দফায় ভোট গ্রহণ হবে—প্রথম দফা ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। নির্বাচনের আগে যাতে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কোনও রকম প্রলোভন, ঘুষ, মদ বা মাদক রাজ্যে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ জারি করেছে কমিশন।

এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিহার ও সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে নগদ অর্থ, অবৈধ মদ, অস্ত্র, মাদক, উপহার সামগ্রী ও দুষ্কৃতীদের গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল সীমান্তে প্রবেশপথগুলিও সিল করে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়।

নির্বাচন কমিশন ভোটার-বান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বুথগুলিতে প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রবেশযোগ্যতা বাড়ানোর নির্দেশও দিয়েছে। পাশাপাশি বুথ এলাকায় ভুয়ো ভোট বা অনিয়ম ঠেকাতে বাড়তি নজরদারির কথাও বলা হয়েছে।

বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব ও পুলিশ ডিজিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় টহলদারি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। শসস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর মহাপরিচালককেও সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি—যেমন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB), আয়কর দফতর, সেন্ট্রাল জিএসটি (CGST) এবং ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)—কেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, ভোটের আগে কোনও অবস্থাতেই রাজ্যসীমা বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে নগদ টাকা, মদ বা অস্ত্র প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

এই সমস্ত সংস্থাকে বলা হয়েছে, সক্রিয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাজেয়াপ্তির পরিমাণ সর্বাধিক করতে। আর্থিক এবং মাদকচক্রের মাধ্যমে ভোটে প্রভাব বিস্তার রুখতেই এই উদ্যোগ।

নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, “ভোট শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং প্রলোভনমুক্ত রাখতে হলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ই সবচেয়ে জরুরি।”