কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর

রাজ্যের বড় বড় আবাসন ও হাইরাইজে ভোটকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের আবহে এ বার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ৩০০ কিংবা ৫০০-র বেশি ভোটার থাকা আবাসনের বুথ সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট বুধবারের মধ্যেই জমা দিতে হবে—এই নির্দেশ মানা না হলে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর (CEO Office) ডিইওদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকে। বৈঠকে নির্দেশ দেন ডেপুটি কমিশনার Gyanesh Bharti। সেখানে স্পষ্ট করে জানানো হয়—
যে সব আবাসনে ৩০০ বা ৫০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেই তালিকা জেলা ধরে তৈরি করে বুধবারের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল—কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলি—এই আট জেলার ডিইওদের। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হন।

সূত্রের খবর, আবাসন ও হাইরাইজ সংক্রান্ত আলোচনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান জ্ঞানেশ ভারতী। ওই জেলা থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মিলছে না বলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে প্রশাসনিক স্তরে দায় নির্ধারণ করা হবে।

যদিও নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল—

  • যেসব এলাকায় ২৫০-র বেশি বাড়ি রয়েছে

  • অথবা আবাসন/বহুতল/বস্তি এলাকায় ৫০০-র বেশি ভোটার
    সেখানে সমীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

তবে কলকাতা ও শহরতলি কিংবা বড় শহরগুলির ক্ষেত্রে কোনও আবাসনে যদি ৩০০-র বেশি ভোটার থাকেন, সেখানেও বুথ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে হবে। এই রিপোর্ট জমার শেষ সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর।

অন্যদিকে বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তিনি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার Ganesh Kumar-কে চিঠিও দেন।

মমতার যুক্তি—

  • ভোটকেন্দ্র সাধারণত সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে হওয়াই নিয়ম

  • তাতে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়

  • বেসরকারি প্রাঙ্গণে বুথ হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে

  • ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির পরও Election Commission of India বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা চালিয়ে যাচ্ছে এবং রাজ্য প্রশাসনের উপর রিপোর্ট জমার চাপ বাড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, শহুরে এলাকায় ভোটার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বড় আবাসনে বুথ থাকলে ভোটারদের যাতায়াত সহজ হবে এবং ভোট শতাংশ বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কমিশনের প্রধান লক্ষ্য—আর সেই কারণেই জেলা ধরে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আবাসনের বুথ নিয়ে বিতর্ক রাজনীতির মঞ্চে থাকলেও প্রশাসনিক স্তরে কমিশনের বার্তা এখন একেবারে স্পষ্ট—রিপোর্ট জমা দিন, না হলে কড়া ব্যবস্থা। বুধবারের ডেডলাইন পেরোলে কোন কোন জেলার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।