কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৮ নভেম্বর

রাজ্যের ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায় খুলতে চলেছে পিজি বা এসএসকেএম হাসপাতাল। বহু প্রতীক্ষার পর আগামী জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই চালু হতে চলেছে কলকাতার প্রথম ‘সুপার’ ক্যান্সার হাব—যেখানে একই ছাতার তলায় মিলবে বিশ্বমানের হাইটেক পরিষেবা, আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্রপাতি এবং অঙ্গভিত্তিক পৃথক চিকিৎসা ব্যবস্থা। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ।

একই ছাদের তলায় অঙ্গভিত্তিক আলাদা ওপিডি—ভারতেও প্রথম সারির উদ্যোগ

নতুন ক্যান্সার হাবের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—
অঙ্গভিত্তিক পৃথক ওপিডি (OPD) পরিষেবা।
ফলে একেকজন রোগী তাঁর নির্দিষ্ট ক্যান্সারের জন্য আলাদা বিভাগে চিকিৎসা পাবেন—

  • ফুসফুস ক্যান্সার

  • হেড অ্যান্ড নেক

  • সার্ভাইক্যাল

  • মাসকিউলোস্কেলিটাল

  • অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগ

এই ব্যবস্থা রোগচিত্র দ্রুত বোঝা, নির্ভুল পরীক্ষার রিপোর্ট এবং যথাযথ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে চিকিৎসকদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে।

পিজির ক্যান্সার হাবের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অলোক ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন—
“প্রথম ধাপে আউটডোর ও রেডিয়েশন পরিষেবা চালু হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই ইনডোর, ডে কেয়ার এবং কেমোথেরাপিও পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর রাজ্যে দু’টি ‘হাইটেক ক্যান্সার হাসপাতাল’ তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

  • প্রথমটি পিজিতে

  • দ্বিতীয়টি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে

দুটি হাসপাতালই তৈরি হচ্ছে টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সারের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায়। আধুনিক যন্ত্র চালানো এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য পিজির চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের মুম্বইয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণে পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

পিজি সূত্রের দাবি—২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই নতুন ভবনের প্রথম দুটি তলায়

  • আউটডোর

  • রেডিয়োথেরাপি

চালু হবে।
এরপর বাকি আটটি তলায়

  • ইনডোর

  • ডে কেয়ার

  • কেমোথেরাপি ইউনিট , তৈরি করা হবে। বর্তমানে এই পরিষেবা চলছে কলকাতা পুলিশ হাসপাতালে, যা ধীরে ধীরে পুরোপুরি স্থানান্তরিত হবে নতুন ভবনে।

যে যন্ত্রগুলির উপর দাঁড়িয়ে নতুন যুগের চিকিৎসা নতুন ক্যান্সার হাবে আসছে -

  • দুটি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর (LINAC)

  • ব্র্যাকিথেরাপি মেশিন

  • সিটি সিম্যুলেটর

  • একাধিক ডিজিটাল চিকিৎসা যন্ত্র

এর মধ্যে বেশিরভাগ যন্ত্র ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছে। শুধু স্থাপনাই বাকি।

এসএসকেএমের এক পদস্থ আধিকারিক জানাচ্ছেন—
ক্যান্সারের আধুনিক যন্ত্রপাতিতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।

  • দুটি লিন্যাক: সাড়ে ২৬ কোটি × ২

  • সিটি সিম্যুলেটর: প্রায় সওয়া ৬ কোটি

  • ব্র্যাকিথেরাপি: প্রায় সওয়া ৪ কোটি

  • সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ: আরও ১৮–২০ কোটি

সব মিলিয়ে খরচ ছুঁয়ে ফেলছে ১০০ কোটি টাকা।

চিকিৎসকদের ভাষায় - নির্ভুল রেডিয়েশন—কম ক্ষতি, বেশি সাফল্য

  • লিন্যাক আক্রান্ত কোষে রেডিয়েশন পৌঁছায় মিলিমিটার নির্ভুলতায়

  • ফলে আশপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি কমে

  • ব্র্যাকিথেরাপি টিউমারের ভিতরেই রেডিয়েশন দিতে সক্ষম

  • রোগীর জন্য কোন ডোজ উপযুক্ত—তা নির্ধারণ করবে সিটি সিম্যুলেটর

শুরু হচ্ছে ইমিউনোথেরাপি ও আধুনিক চিকিৎসার নতুন পর্ব

ডাঃ দস্তিদার বলেন—
“প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং আরও বেশ কিছু আধুনিক চিকিৎসা এখানে শুরু হবে। লক্ষ্য—দেশের অন্যতম সেরা ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র হয়ে ওঠা।”

রাজ্যের হাজার হাজার ক্যান্সার রোগীর কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক বড় আশার আলো।