কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  : কলকাতা :১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানি ? এফআইআর নিতে গড়িমসি ? অথবা উল্টে পুলিশকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ? এই চিরচেনা টানাপোড়েনের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ।

এবার ট্র্যাফিক পুলিশের মতো থানার ডিউটি অফিসারদের উর্দিতেও বাধ্যতামূলক ‘বডি ক্যামেরা’।
অর্থাৎ, থানায় কী ঘটছে— কথাবার্তা থেকে আচরণ— সবই ধরা থাকবে ভিডিওতে।

লালবাজার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই দু’পক্ষের অভিযোগ সামনে আসছিল—

 অভিযোগকারীদের দাবি ,অভিযোগ নিতে অনীহা,এফআইআর না নেওয়া,জিডি করতে দেরি,‘এলাকার মধ্যে পড়ে না’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া,পুলিশের পাল্টা দাবি ,ভুয়ো অভিযোগ,প্রভাবশালীদের চাপ,রাজনৈতিক ফোন

এই পরিস্থিতিতে “কথা বনাম কথা” বিতর্কের ইতি টানতেই প্রযুক্তির আশ্রয়।

নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নাগরিক পরিষেবা ও থানার আচরণে জোর দিয়েছেন।

তিনি—
সারপ্রাইজ ভিজিট করছেন
ছদ্মবেশে থানায় যাচ্ছেন
নিজে পরিস্থিতি যাচাই করছেন

সম্প্রতি গভীর রাতে বালিগঞ্জ ও সার্ভে পার্ক থানায় গিয়ে সাধারণ নাগরিক সেজে জিডি করার চেষ্টা করেন তিনি।

লক্ষ্য একটাই— থানায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঠিক কেমন ব্যবহার হচ্ছে?

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে—

 ডিউটি অফিসারের বুকে ক্যামেরা লাগানো থাকবে
 ডিউটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রেকর্ডিং চালু
 ভিডিও ও অডিও দুটোই রেকর্ড হবে
 প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে ফুটেজ

এর আগে ট্র্যাফিক বিভাগে বডি ক্যামেরা চালুর পরে—

  • সড়ক বিতর্ক কমেছে

  • ঘুষ বা অসদাচরণের অভিযোগ কমেছে

  • প্রমাণ দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে

এই সাফল্যের মডেল এবার থানাতেও।

এই ব্যবস্থায়— পুলিশ গাফিলতি করলে → কড়া শাস্তি,ভুয়ো অভিযোগ করলে → আইনি ব্যবস্থা

অর্থাৎ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা— দুটোই নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।

যদিও থানায় সিসিটিভি থাকলেও—সব সময় ডিউটি ডেস্কের ক্লোজ-আপ পাওয়া যায় না।বডি ক্যামেরা থাকলে—প্রত্যক্ষ দৃশ্য,কথোপকথন,তাৎক্ষণিক আচরণ সবই স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।

একই সাথে সাইবার ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—“এতে নাগরিকের আস্থা বাড়বে, পুলিশের পেশাদারিত্বও উন্নত হবে।”

থানায় ঢুকলেই এখন ‘ক্যামেরার নজর’। পুলিশ–জনতা সম্পর্কের স্বচ্ছতা আনতেই এই নতুন পদক্ষেপ। কলকাতা পুলিশ বলছে— ‘সার্ভিস উইথ ট্রান্সপারেন্সি’।