কলকাতা টাইমস নিউজ  : নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :২১ মার্চ ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বামফ্রন্ট ও আইএসএফ জোটে ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিমকে ঘিরে। আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতভেদের জেরে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ফলে নির্বাচনের আগে জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।

পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন ঘিরেই মূলত জটিলতার সূত্রপাত। আইএসএফ চেয়েছিল নিহত তৃণমূল নেতা কুরবান শা’র দাদা আফজল শা-কে প্রার্থী করতে। কিন্তু সেই প্রস্তাব মানতে নারাজ বামফ্রন্ট। তাদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আফজল শা কখনও আইএসএফের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থাতেই দীর্ঘ ৪৬ বছর পর পাঁশকুড়া পশ্চিমে সিপিআইয়ের বদলে প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম।

এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি। ঐতিহাসিকভাবে এই আসনে সিপিআইয়ের প্রভাব ছিল প্রবল। বাম আমলে টানা কয়েক দশক ধরে সিপিআই-ই এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী দিয়েছে এবং সিপিএম তাদের সমর্থন করেছে। সেই প্রথা ভেঙে এবার সরাসরি সিপিএম প্রার্থী দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা গিয়েছে।

অন্যদিকে নন্দীগ্রামেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এই কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থী ঘোষণা করলেও আইএসএফ সেখানেও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দুই জোটসঙ্গীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইএসএফের তরফে ইতিমধ্যেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়ে এই দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিম—দুই আসনেই প্রার্থী দিতে চান এবং সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাম নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।

তবে বাম নেতৃত্ব এই দাবিতে অনড় থাকেনি। নিরঞ্জন সিহির বক্তব্য, আইএসএফ যদি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে এই দুই কেন্দ্রে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ হবে। অর্থাৎ জোটের মধ্যে থেকেই পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

যদিও অন্যদিকে মহিষাদল আসনটি আইএসএফকে ছেড়ে দিয়েছে বামফ্রন্ট, যা জোট ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবুও নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিমে এই মতভেদ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমঝোতার সীমা কোথায় গিয়ে থামছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে জোটের শক্তিই মূল ভরসা, সেখানে প্রার্থী নিয়ে বিভাজন ভোট ভাগাভাগির কারণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাম–আইএসএফ জোটে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয় কি না, নাকি এই দুই কেন্দ্রে জোটসঙ্গীদের মধ্যেই সরাসরি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকবে বাংলার ভোট ময়দান।