কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২৪ অক্টোবর
নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে দেশের একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) কার্যক্রম শুরু হতে চলেছে। ভোটারদের তথ্য সর্বোচ্চ নির্ভুল করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বুধবার থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফালবেঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)রা। বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরীর সিইওদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে যাতে নভেম্বরের প্রথম দিকেই এসআইআর কার্যক্রম শুরু করা যায়।
ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল ম্যানেজমেন্ট (IIIDEM)-এ দুদিন ধরে চলছে এই বৈঠক। সভাপতিত্ব করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, সঙ্গে রয়েছেন দুই কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু ও ড. বিবেক জোশি।
বৈঠকের মূল বিষয়সমূহ
কমিশনের লক্ষ্য এখন ভোটার তালিকার যথাযথ সংশোধন নিশ্চিত করা। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে—
-
DEO, ERO, AERO, BLO ও BLA-দের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি।
-
নতুন ও পুরনো ভোটার তালিকা মিলিয়ে যাচাই।
-
প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে তালিকায় ভুল সংশোধন।
-
নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কর্মী প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
কমিশনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, “ভোটার তালিকায় কোনও ভুল যেন না থাকে, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য। ভুল তথ্য থাকলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।”
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কমিশন বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। রাজ্যের সিইও-র সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে নিশ্চিত করা হচ্ছে, যে সব ভোটারদের তথ্য পুরনো বা অপ্রচলিত আছে, তা অবিলম্বে আপডেট করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন করতে হলে এসআইআর কার্যক্রমে প্রতিটি জেলা, ব্লক এবং পৌরসভার স্তরে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই প্রথম পর্যায়ের এসআইআর শুরু হবে, যেখানে প্রতিটি ভোটারের তথ্য যাচাই, ঠিকানা হালনাগাদ এবং মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের তালিকা বাদ দেওয়া হবে। এতে আগামী বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় ভোটারদের তথ্য সর্বাধিক নির্ভুল হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Continue With Google
Comments (0)