কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিউজ ডেস্ক  :কলকাতা :৩১ ডিসেম্বর

বছরের শেষ লগ্নে প্রকৃতি যেন আর কোনও রেয়াত করল না। বুধবার ভোরে Kolkata-য় তাপমাত্রা নেমে এল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—গত পাঁচ বছরের মধ্যে ডিসেম্বরে যা সর্বনিম্ন। একদিনের ব্যবধানে পারদ প্রায় ১.৬ ডিগ্রি কমে যাওয়া এবং স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ২.৮ ডিগ্রি নীচে নামা—সব মিলিয়ে শীতপ্রেমীদের জন্য এদিন ছিল মরসুমের ‘পিক মোমেন্ট’।

বুধবার সকালে শহরতলি থেকে শহরের বহু অংশেই ঘন কুয়াশার চাদর। রাস্তা, উড়ালপুল, রেললাইন—সবই যেন ধূসর পর্দার আড়ালে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যযাতায়াতে; কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়েছে। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ওঠেনি—স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫.৮ ডিগ্রি কম।

Alipore Weather Office জানিয়েছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা থাকবে। দুপুর গড়ালে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ভোরের ঠান্ডা ও কুয়াশা আপাতত ছাড়ছে না।

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা—উত্তুরে হাওয়ার পথে কার্যত কোনও বাধা নেই। উত্তর ভারতের শুষ্ক, হিমেল বাতাস রাজ্য জুড়ে অবাধে প্রবেশ করছে। সেই সঙ্গে আর্দ্রতার উপস্থিতিতে কুয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে শীতের অনুভূতি ‘রিয়াল ফিল’-এ আরও তীব্র।

দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে কুয়াশা ও ঠান্ডার দাপট বেশি। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি। ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা নেমে যেতে পারে ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত। বিশেষ করে কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বিকেলের দিকে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, বুধবারের পর থেকে ধীরে ধীরে পারদ ২–৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। তবে এই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা ঠিক কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত বলা যায়—কুয়াশা, ঠান্ডা হাওয়া আর নিম্ন তাপমাত্রার যুগলবন্দিতে ডিসেম্বরের শেষটা কলকাতাবাসীর মনে থেকে যাবে।