কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :২০ ডিসেম্বর
নদিয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ছিল শনিবারের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায়, বহুদিনের প্রস্তুতি—কিন্তু শেষমেশ বাধা হয়ে দাঁড়াল কুয়াশা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাহেরপুরে নামতেই পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অডিয়ো বার্তা দিয়েই তিনি ছুঁয়ে গেলেন বাংলার রাজনীতি, তৃণমূল-বাম জোটবদ্ধ শাসন নিয়ে অভিযোগ, অনুপ্রবেশ–SIR বিতর্ক, উন্নয়ন বনাম দুর্নীতি, বিহারের ফলাফল এবং সর্বোপরি ২০২৬-এর ভোটের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এ যেন ১৬ মিনিটের ভাষণে মোদীর নির্বাচনী যুদ্ধঘোষণা।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এ দিন বায়ুসেনার কপ্টারেই তাহেরপুরের দিকে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সভাস্থলের কাছে কুয়াশার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে নিরাপত্তাজনিত কারণে হেলিকপ্টার নামানো গেল না।
ফলে মাঝপথ থেকেই ফিরতে হয় মোদীকে কলকাতা বিমানবন্দরে—সেখানে থেকেই অডিয়ো বার্তা রেকর্ড করে পাঠানো হয় তাহেরপুর মঞ্চে।
অপেক্ষায় থাকা জনতার হতাশা থাকলেও ভাষণের রাজনৈতিক ধার ছিল অবিকল তীক্ষ্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বারবারই ইঙ্গিত করেছেন, “বাংলার উন্নতির জন্য টাকা, প্রকল্প, ইচ্ছে—কোনও কিছুরই অভাব নেই। অভাব শুধু রাজ্যের সদিচ্ছার।”
তাঁর দাবি, কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কাজ আটকে দিচ্ছে তৃণমূল—‘কমিশন’ ও ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি থামাচ্ছে প্রকল্পের গতি। মোদীর প্রশ্ন—“তৃণমূল যদি মোদীর বিরোধিতা করতে চায়, করুক। কিন্তু বাংলার উন্নতির বিরোধিতা কেন করছে?”
এই বক্তব্যে তিনি কার্যত তুলে ধরলেন কেন্দ্র–রাজ্য দ্বন্দ্বের মূল রাজনীতি এবং ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ আনার আহ্বান জানালেন সাধারণ মানুষের কাছে।
কয়েকদিন আগেই বিহারে বিজেপি–জোটের জোরালো জয়। মোদী পুনর্বার সেই প্রসঙ্গ টেনে বললেন—
“গঙ্গা বিহার থেকে বয়ে বাংলায় আসে—এই জয়ের সুর বাংলাতেও পৌঁছচ্ছে।”
বিহারের ‘জঙ্গলরাজ’ এবং বাংলার বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, এখন বাংলার মানুষের মুখে একটাই কথা—“বাঁচতে চাই, আর তাই চাই বিজেপি।”
এ বক্তব্য নিশ্চিতভাবেই ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনের যুদ্ধরং গাঢ় করল।
বিজেপির প্রথাগত রাজনৈতিক বক্তব্যেই ফিরে যান মোদী—অনুপ্রবেশ এবং SIR (State Inclusion Register) নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন।
তাঁর অভিযোগ—“অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দিতেই তৃণমূল SIR-এর বিরোধিতা করছে।”
একইসাথে ত্রিপুরার প্রসঙ্গও সামনে আনেন তিনি। বলেন,
“আগে ত্রিপুরায় বাম ছিল, আজ উন্নতি করছে কারণ বিজেপি সরকার আছে। বাংলায় বাম গেছে ঠিকই, কিন্তু তৃণমূল বামেদের খারাপ অভ্যাসগুলোই শুধু গ্রহণ করেনি—তার থেকেও এগিয়ে গেছে।”
তাহেরপুর পুরসভা বামদের হাতে রয়েছে—এই তথ্যও রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই ব্যবহার করলেন তিনি।
সবশেষে তাঁর উচ্চারণ—“বাংলায় একবার বিজেপি সরকার এনেই দেখুন, কী দ্রুত উন্নতি হয়…”
এ কথাতেই স্পষ্ট—এদিনের ভাষণ শুধু তাহেরপুরের জন্য নয়, গোটা বাংলার ভোটমানচিত্র তাকিয়ে এবার থেকেই তৈরি হচ্ছে বিজেপি।
উল্লেখ নিজের ভাষণ শুরু করেন—“জয় নিতাই” বলে। নদিয়ার ভক্তি-ঐতিহ্য, হরিনামের সংস্কৃতি, হরিচাঁদ–গুরুচাঁদ ঠাকুর, বড়মার কথা উল্লেখ করেন। Recent ‘Vande Mataram’ controversy-এর পর এদিন তিনি বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলে সম্মান জানান। মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের প্রতি তাঁর এই আবেগমিশ্রিত বার্তা স্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে সভাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে—এই তথ্য ভাষণেই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের পরিবারকে শোকবার্তা জানান।এরপর জাতীয় সড়ক ১২–র ৪ লেন প্রকল্পসহ ৩ হাজার কোটিরও বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
Continue With Google
Comments (0)