বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের তীব্র হচ্ছে হিন্দুত্ব বনাম শাসন-দক্ষতা বিতর্ক। অনুপ্রবেশ, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন—এই সব ইস্যুতে বিজেপি যখন তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে চাইছে, তখন সেই হাতিয়ারই ঘুরিয়ে বিজেপির দিকেই তাক করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। আর তাতেই পাল্টা সুর চড়ালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari—ফের হিন্দুদের জোট বাঁধার ডাক।
শুক্রবার বারুইপুরের জনসভা থেকে একটি অডিয়ো ক্লিপ শোনান অভিষেক। তাঁর দাবি, ওই ক্লিপে শোনা কণ্ঠস্বর একটি জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীর। (এই অডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।) ক্লিপে শোনা যায়—“এটা সরকার চলছে! এর থেকে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার ভালো চলছে!”
এই বক্তব্যটি সভায় একাধিকবার শোনানোর পর অভিষেক বলেন, বিজেপি নেতা কার্যত বলছেন যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের চেয়েও বাংলাদেশে Muhammad Yunus-এর সরকার নাকি ভালো চলছে।
এরপরই অভিষেক সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তোলেন। ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপুচন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে খুন করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,
“যাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে হিন্দুদের মারা হচ্ছে, সেই সরকারকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন বিজেপি নেতা—এটাই কি বিজেপির হিন্দুত্ব?”
অডিয়ো ক্লিপ প্রসঙ্গে তাঁর চ্যালেঞ্জ, “যদি এটা মিথ্যা হয়, তবে আমার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করুন। আমাকে জেলে পাঠান। তখনই দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির হিন্দুত্ব-আখ্যানকে উল্টো দিক থেকে আঘাত করে তাদের ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে প্রমাণ করার কৌশল হিসেবেই এই অডিয়ো তুলে ধরেছেন অভিষেক।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ আরও বলেন,“ যাঁরা নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করে, তাঁরাই মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, ২০১৯ সালে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলে—তাঁরাই আবার বাংলা বাঁচাবে! দিল্লির নেতাদের জুতো চাটা ছাড়া ওদের কোনও কাজ নেই। ”
বারুইপুরের সভার আগেই মালদার চাঁচলে জনসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তিনি ফের হিন্দু জোটের ডাক দিয়ে বলেন, “গত লোকসভায় উত্তর মালদায় ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মফুলে ভোট দিয়েছেন। গোটা রাজ্যের সনাতনীরা যদি এগিয়ে আসেন, তবে ২০০ নয়—২২০ আসনেও বিজেপি জিততে পারে।”
শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতা দাবি করেন, “শুভেন্দুদা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রশংসা করেননি। তিনি বলেছেন—বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের থেকেও পশ্চিমবঙ্গে Mamata Banerjee-র সরকার বেশি হিন্দু-বিরোধী।” মুর্শিদাবাদে হিন্দু পরিবারে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি যোগ করেন, “এই নির্যাতন কোনও অংশে কম নয়।”
একদিকে তৃণমূল বিজেপিকে ‘ভণ্ড হিন্দুত্ব’-এর অভিযোগে বিদ্ধ করতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপি হিন্দু সংহতিকে ভোটের মূল কৌশল বানিয়ে এগোচ্ছে। ভোট যত এগোবে, এই সংঘাত ততই তীব্র হবে—এটাই এখন বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা।
Comments (0)