ভুয়ো জনজাতি শংসাপত্র বাতিল ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে মঙ্গলবার ধর্মতলায় কার্যত শক্তি প্রদর্শন করল রাজ্যের আদিবাসী সংগঠনগুলির একাংশ। ‘ইউনাইটেড ফোরাম অব অল আদিবাসী অর্গানাইজেশনস’-এর ডাকে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল করে আন্দোলনকারীরা পৌঁছন ধর্মতলায় ।
প্রায় ৫০টি জনজাতি সংগঠন এই আন্দোলনে শামিল হয়। মিছিল ও সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় নীতির পাশাপাশি রাজ্যের শাসক দল Trinamool Congress-এর বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানানো হয়। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—দাবি না মানলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উঠবে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ স্লোগান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে প্রকৃত জনজাতি নন এমন বহু মানুষকে জনজাতি শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংরক্ষণ, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আসল আদিবাসীরা। তাঁদের দাবি, এই ভুয়ো শংসাপত্র বাতিল না হলে সামাজিক ন্যায়ের ধারণাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে রামদাস কিস্কু, তপন সর্দার, পারশাল মুর্মু, রবীন সোরেন, দুলাল মুদি, সদানন্দ মুড়া, বুবুন মুড়া, অসীম সিং ও মদন মুর্মু-সহ একাধিক নেতা বলেন,
“ভুয়ো শংসাপত্রে যারা সুবিধা নিচ্ছে, তারা আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এটা বন্ধ না হলে আমরা থামব না।”
শুধু শংসাপত্র নয়—আন্দোলনকারীরা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, নতুন বন সংরক্ষণ আইন জনজাতিদের জমি ছাড়াতে এবং বৃহৎ পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করতেই আনা হয়েছে। এতে আদিবাসীদের রায়ত ও পাট্টা জমি বিপন্ন হচ্ছে।
নেতৃত্ব জানান, রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
-
ভুয়ো জনজাতি শংসাপত্র বাতিল ও তদন্ত কমিশন গঠন
-
জনজাতিদের রায়ত ও পাট্টা জমি দখল বন্ধ
-
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করা
-
বনাধিকার আইন কার্যকর করা
এক নেতার কণ্ঠে স্পষ্ট বার্তা, “সংরক্ষণ ও অধিকার শুধু কথায় নয়, বাস্তবে কার্যকর হোক। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতেই হবে।”
এই আন্দোলন যে শুধু প্রশাসনিক দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা পরিষ্কার। ‘নো ভোট টু তৃণমূল’-এর হুঁশিয়ারি দিয়ে আদিবাসী সংগঠনগুলি জানিয়ে দিল—দাবি মানা না হলে ভোটের ময়দানেও তার প্রভাব পড়বে। রাজ্য রাজনীতিতে এই আন্দোলন কতটা অভিঘাত তৈরি করে, সেদিকেই এখন নজর।
Comments (0)