কলকাতা টাইমস নিউজ :নিজস্ব সংবাদদাতা :কলকাতা :০৪ নভেম্বর
আজ, মঙ্গলবার থেকেই রাজ্য জুড়ে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিএলও (Booth Level Officer)-রা আজ থেকে এনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে যাচ্ছেন। প্রতিটি ভোটারকেই এই ফর্ম পূরণ করতে হবে।
এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া মানে শুধুমাত্র নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নয়—বরং এটি নাগরিক দায়িত্বেরও প্রতিফলন। দেখে নিন কীভাবে আপনি প্রস্তুত থাকবেন এবং কী করণীয়—
১️ বিএলও আসবেন যেকোনও সময়ে: বিএলও-দের নির্দিষ্ট ডিউটি টাইম নির্ধারণ করা হয়নি। তাই তাঁরা নিজের নিয়মিত কাজ শেষ করে দিনের যেকোনও সময়ে আপনার বাড়িতে ফর্ম দিতে আসতে পারেন।
২️ ফর্ম নিন ও পূরণ করুন: বাড়িতে যদি ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে এমন কেউ থাকেন, তাহলে তার জন্য আলাদা করে ৬ নম্বর ফর্ম নিন। এতে নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
৩️ বাড়িতে না থাকলে চিন্তা নেই: বিএলও অন্তত তিনবার আসবেন। তিনবারেও না পেলে, দরজায় নোটিস রেখে ফর্ম দিয়ে যাবেন। অর্থাৎ, ফর্ম আপনার হাতে পৌঁছনো নিশ্চিত করা তাঁদের দায়িত্ব।
৪️ বিএলও-এর ছবি তোলা বাধ্যতামূলক: প্রতিবার বাড়িতে আসার সময় বিএলও-দের নিজেদের ছবি তুলতে হবে। ফলে, আপনার কাছে ফর্ম পৌঁছনোর প্রমাণ থাকবে।
৫️ মৃত ভোটারের ফর্ম জমা দেবেন না: যদি পরিবারের কোনও ভোটার মারা গেছেন, তাঁর ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন না। বিএলও-কে জানিয়ে দিন। না হলে পরবর্তীতে নাম বাতিলের ঝামেলা হতে পারে।
৬️ বিএলও-এর মোবাইল নম্বর রাখুন: ফর্ম নেওয়ার সময় জেনে নিন, কখন জমা দিতে আসবেন। তাঁর যোগাযোগ নম্বর নোট করুন, প্রয়োজনে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
৭️ নথি দেওয়া ঐচ্ছিক: ফর্মের সঙ্গে নথি দিতে পারেন, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম মেলে গেলে আর কিছু লাগবে না। না মিললে, নির্ধারিত নথি প্রস্তুত রাখুন।
৮️ বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে: যদি কোনও মহিলা ভোটার বিয়ের পর ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে তাঁর বাবা-মা বা স্বামীর নামের লিঙ্কেজ প্রমাণ এবং ম্যারেজ সার্টিফিকেট যথেষ্ট।
৯️ সাহায্য দরকার হলে: যে কোনও প্রশ্ন বা সমস্যার জন্য নির্বাচন কমিশনের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-১১-১৯৫০ নম্বরে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ফোন করতে পারেন।
১০ অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা: ‘ECINET’ অ্যাপে গিয়ে সরাসরি ‘Book a Call with BLO’ করতে পারেন। অভিযোগ বা প্রশ্ন জানাতে চাইলে মেইল করুন—[email protected]-এ।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে কোনও প্রকৃত ভোটার বাদ না পড়ে, তার জন্য প্রত্যেকের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
নাগরিকদের জন্য পরামর্শ
ফর্ম পূরণের সময় সাবধানে তথ্য লিখুন।
নিজের নাম, বয়স ও ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন।
পরিবারের নতুন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের নাম তুলতে ভুলবেন না।
ভোট শুধুমাত্র একটি অধিকার নয়, এটি আমাদের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক। তাই আজ থেকেই দায়িত্ব নিন—বিএলও আসলে ফর্ম সংগ্রহ করুন, পূরণ করুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার নাম ভোটার তালিকায় আছে।
Comments (0)