কলকাতা টাইমস নিউজ  :নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা :১১ ডিসেম্বর

  বহুতল আবাসন, গেটেড কমিউনিটি, গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি ও বস্তি এলাকায় পৃথক বুথ তৈরির বিষয়ে সমীক্ষার কাজে অদক্ষতা ও ঢিলেমির অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আর সেই কারণেই রাজ্যের CEO দপ্তরের উপর ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। বুধবার এক চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে— “প্রতিবেদন চাওয়া সত্ত্বেও কেন কোনও সদুত্তর পাওয়া গেল না?”

রাজ্যের CEO দপ্তর দু’দিন আগেই জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথেষ্ট আবেদন জমা না হওয়ায় বহুতল ভবনে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রথম দফার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২৫০ বাড়ি বা ন্যূনতম ৫০০ ভোটার থাকলে আবাসনে বুথ তৈরির প্রস্তাব আনার কথা ছিল DEO-দের। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও হাতে আসে মাত্র দু’টি রিপোর্ট!

এই অনুত্তরদায়িত্বই ক্ষুব্ধ করেছে নির্বাচন কমিশনকে।

বুধবার পাঠানো চিঠিতে কমিশন জানায়—

  • DEO-দের বারবার বৈঠক করে বহুতলে বুথ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছিল।

  • ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

  • কিন্তু এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ জেলাই কোনও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠায়নি।

কমিশনের মত—এতে অবহেলা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ছাপ স্পষ্ট।

CEO দপ্তরকে কমিশন জানিয়েছে,

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল বহুতল, সোসাইটি, বস্তি, RWA কলোনি ও গেটেড আবাসনের ক্ষেত্রে বুথ তৈরির প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

যেসব আবাসনের ভিতরেই ভোটকেন্দ্র তৈরি সম্ভব—সেসবের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষার রিপোর্ট আবারও চাওয়া হয়েছে।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বুথ সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি যেসব আবাসনে—সেখানে ভোটারদের দীর্ঘ দূরত্বে যেতে না হয়, তাই আবাসনের মধ্যেই বুথ রাখার পরিকল্পনা।

বাসিন্দারা যাতে সুরক্ষিত পরিবেশে সহজেই ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

এই প্রস্তাব নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য—

  • আবাসনের ভিতরে বুথ করলে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

  • ভোটের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

এর জবাবে CEO দপ্তর নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানায়—

  • বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে গেলে ভোটার সেবার মান নিম্নগামী হবে।

  • আধুনিক আবাসনে বুথ স্থাপন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এখন সেই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে জেলা প্রশাসনের ঢিলেমির অভিযোগের কারণে।

নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের মতে,

“DEO-রা দ্রুত রিপোর্ট না দিলে বহুতল আবাসনে বুথ তৈরির পুরো প্রকল্পই বিলম্বিত হবে, যার প্রভাব পড়বে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে।”

ফলে এখন জেলা প্রশাসনের উপর বাড়তি চাপ—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত সমীক্ষা সম্পন্ন করা।

এখন দেখার বিষয়—DEO-রা কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনে কি সময়মতো পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠাতে পারেন। কারণ নির্বাচনের আগমুহূর্তে বুথ বৃদ্ধির পরিকল্পনা থমকে গেলে তার প্রভাব রাজ্যের ভোট প্রস্তুতিতেই পড়বে।